কোন রক্তের গ্রুপের মানুষের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি জেনে নিন, কারণ জেনে সতর্ক হন। বিস্তারিত কমেন্ট
কোন রক্তের গ্রুপের মানুষের ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি? গবেষণায় কী জানা গেছে, জেনে নিন
ক্যানসার একটি জটিল রোগ, যা বিভিন্ন কারণে হতে পারে। বংশগত বৈশিষ্ট্য, বয়স, ধূমপান, কিছু সংক্রমণ, পরিবেশগত প্রভাব এবং জীবনযাপনের অভ্যাসসহ নানা বিষয় ক্যানসারের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, মানুষের রক্তের গ্রুপের সঙ্গে কি ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার কোনো সম্পর্ক রয়েছে?
চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ বিষয়ে বিভিন্ন গবেষণা হয়েছে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু রক্তের গ্রুপের সঙ্গে কয়েক ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকির পরিসংখ্যানগত সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে এই সম্পর্কের অর্থ এই নয় যে কোনো বিশেষ রক্তের গ্রুপের মানুষ নিশ্চিতভাবে ক্যানসারে আক্রান্ত হবেন, কিংবা অন্য রক্তের গ্রুপের মানুষ সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত থাকবেন।
রক্তের গ্রুপ ও ক্যানসারের সম্পর্ক কী?
মানুষের রক্তের গ্রুপ সাধারণত A, B, AB ও O—এই চারটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। এর পাশাপাশি Rh পজিটিভ ও নেগেটিভের মতো বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। রক্তের গ্রুপ নির্ধারিত হয় লোহিত রক্তকণিকার পৃষ্ঠে থাকা নির্দিষ্ট অ্যান্টিজেনের ভিত্তিতে।
কিছু পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণায় A, B, AB ও O রক্তের গ্রুপের মানুষের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসারের হার তুলনা করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, কিছু গবেষণায় A রক্তের গ্রুপের সঙ্গে পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকির সামান্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে। আবার O রক্তের গ্রুপের মানুষের ক্ষেত্রে কিছু গবেষণায় অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের তুলনামূলক কম ঝুঁকির সম্পর্ক দেখা গেছে।
তবে এসব ফলাফল সব গবেষণায় একই রকম নয়। শুধু রক্তের গ্রুপের ভিত্তিতে কোনো ব্যক্তির ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা যায় না।
ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে কোন বিষয়গুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্যানসারের ঝুঁকি মূল্যায়নের সময় রক্তের গ্রুপের চেয়ে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন। যেমন—
১. ধূমপান ও তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার।
২. পরিবারের সদস্যদের মধ্যে নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসারের ইতিহাস থাকা।
৩. বয়স বৃদ্ধি এবং কিছু বংশগত জিনগত পরিবর্তন।
৪. অতিরিক্ত সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে আসা।
৫. কিছু ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ।
৬. অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার মতো কিছু ঝুঁকির বিষয়।
মনে রাখতে হবে, এসব ঝুঁকির কোনো একটি থাকলেই যে ক্যানসার হবে, তা নয়। একইভাবে কোনো পরিচিত ঝুঁকি না থাকলেও কারও ক্যানসার হতে পারে।
ক্যানসার প্রতিরোধে কী করবেন?
ক্যানসারের সব ধরন প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে। ধূমপান ও তামাক এড়িয়ে চলা, সুষম খাবার খাওয়া, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম বজায় রাখা, স্বাস্থ্যকর ওজন ধরে রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী টিকা গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ।
শরীরে অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে তা দীর্ঘদিন অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও ব্যক্তিগত ঝুঁকি অনুযায়ী চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা বা স্ক্রিনিংয়ের পরামর্শ দিতে পারেন।
সবশেষে যা জানা জরুরি
রক্তের গ্রুপ জানা স্বাভাবিক স্বাস্থ্যতথ্যের একটি অংশ। কিন্তু A, B, AB কিংবা O—কোনো রক্তের গ্রুপকেই এককভাবে ক্যানসারের নিশ্চিত কারণ বা সুরক্ষার নিশ্চয়তা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। এ বিষয়ে গবেষণা চলমান রয়েছে। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত অতিরঞ্জিত শিরোনাম দেখে আতঙ্কিত না হয়ে নির্ভরযোগ্য চিকিৎসাবিষয়ক তথ্যের ওপর গুরুত্ব দিন।
স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন থাকুন, নিয়মিত প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিন এবং কোনো উপসর্গ দেখা দিলে অনুমানের পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

Comments
Post a Comment