ওষুধ ছাড়াই দ্রুত বীর্যপাত নিয়ন্ত্রণের ২টি কার্যকর উপায়
ওষুধ ছাড়াই দ্রুত বীর্যপাত নিয়ন্ত্রণের ২টি কার্যকর উপায়, জেনে নিন বিস্তারিত
নিজস্ব স্বাস্থ্য প্রতিবেদন | পুরুষদের যৌনস্বাস্থ্য
দ্রুত বীর্যপাত বা প্রিম্যাচিউর ইজাকুলেশন (Premature Ejaculation) পুরুষদের যৌনস্বাস্থ্যের একটি পরিচিত সমস্যা। অনেক পুরুষ যৌনমিলনের সময় প্রত্যাশার আগেই বীর্যপাত হয়ে যাওয়া, যৌন উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা কিংবা সঙ্গীকে পর্যাপ্ত সময় দিতে না পারার কারণে মানসিক অস্বস্তিতে ভোগেন। এ নিয়ে অনেকে দুশ্চিন্তা করেন, আত্মবিশ্বাস হারান এবং সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও অস্বস্তি অনুভব করেন।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বীর্যপাতের সমস্যা মানেই যে গুরুতর কোনো রোগ রয়েছে, তা নয়। উদ্বেগ, মানসিক চাপ, যৌন অভিজ্ঞতার অভাব কিংবা কিছু শারীরিক সমস্যার সঙ্গে এর সম্পর্ক থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু আচরণগত কৌশল অনুশীলন করে বীর্যপাতের ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর চেষ্টা করা যায়।
ওষুধ ছাড়া চেষ্টা করা যায় এমন দুটি পরিচিত পদ্ধতি হলো স্টপ-স্টার্ট পদ্ধতি এবং পেলভিক ফ্লোর বা কেগেল ব্যায়াম। তবে সবার ক্ষেত্রে একই ফল পাওয়া যায় না এবং এগুলো দ্রুত স্থায়ী সমাধানের নিশ্চয়তা দেয় না।
১. স্টপ-স্টার্ট পদ্ধতি: উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের অনুশীলন
দ্রুত বীর্যপাত নিয়ন্ত্রণে স্টপ-স্টার্ট একটি পরিচিত আচরণগত কৌশল। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বীর্যপাতের ঠিক আগের পর্যায়টি চিনতে শেখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী যৌন উদ্দীপনা কমিয়ে উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণ করা।
যেভাবে অনুশীলন করবেন:
প্রথমে যৌন উত্তেজনা বাড়তে থাকলে নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া খেয়াল করুন। যখন মনে হবে বীর্যপাতের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন, তখন উদ্দীপনা বন্ধ করুন। উত্তেজনা কিছুটা কমে এলে আবার শুরু করা যায়। প্রয়োজনে এই প্রক্রিয়া কয়েকবার পুনরাবৃত্তি করা যেতে পারে।
এই পদ্ধতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের উত্তেজনার মাত্রা বুঝতে শেখা। নিয়মিত অনুশীলনে কিছু মানুষের বীর্যপাত নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা বাড়তে পারে।
যৌনমিলনের সময়ও পারস্পরিক সম্মতি ও স্বাচ্ছন্দ্য বজায় রেখে বিরতি নেওয়া যায়। এতে পারফরম্যান্স নিয়ে অযথা চাপ না নিয়ে ধীরে ধীরে নিজের প্রতিক্রিয়া বোঝার সুযোগ তৈরি হয়।
২. কেগেল ব্যায়াম: পেলভিক ফ্লোরের পেশি শক্তিশালী করার চেষ্টা
পেলভিক ফ্লোর হলো শরীরের নিচের অংশে অবস্থিত কিছু পেশি, যা মূত্রত্যাগসহ বিভিন্ন শারীরিক কাজে ভূমিকা রাখে। এসব পেশি সঠিকভাবে সংকুচিত ও শিথিল করার অনুশীলনকে সাধারণভাবে কেগেল ব্যায়াম বলা হয়।
কিছু পুরুষের ক্ষেত্রে পেলভিক ফ্লোরের পেশি নিয়ন্ত্রণের অনুশীলন যৌন কার্যক্ষমতা ও বীর্যপাত নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। তবে শুধু কেগেল ব্যায়াম করলেই দ্রুত বীর্যপাত নিশ্চিতভাবে দূর হবে, এমন প্রমাণ নেই।
যেভাবে শুরু করবেন:
১. প্রথমে এমন পেশি শনাক্ত করার চেষ্টা করুন, যেগুলো ব্যবহার করে প্রস্রাবের প্রবাহ থামানোর চেষ্টা করা যায়। শুধু পেশি শনাক্ত করার জন্য প্রয়োজনে একবার চেষ্টা করতে পারেন; নিয়মিত প্রস্রাবের মাঝখানে থামিয়ে ব্যায়াম করবেন না।
২. আরামদায়ক অবস্থায় বসে বা শুয়ে ওই পেশিগুলো কয়েক সেকেন্ড আলতো করে সংকুচিত করুন।
৩. এরপর পেশিগুলো পুরোপুরি শিথিল করুন এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিন।
৪. পেশিতে ব্যথা বা অস্বস্তি না হলে অল্প কয়েকবার দিয়ে শুরু করুন। ধীরে ধীরে অভ্যাস বাড়ানো যায়।
৫. পেট, নিতম্ব ও উরুর পেশি অপ্রয়োজনীয়ভাবে শক্ত করবেন না।
ব্যায়ামের সময় ব্যথা হলে থামুন। পেশি শনাক্ত করতে সমস্যা হলে বা উপসর্গ বাড়লে চিকিৎসক কিংবা পেলভিক ফ্লোর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
দ্রুত বীর্যপাতের পেছনে কী কী কারণ থাকতে পারে?
দ্রুত বীর্যপাতের একটিমাত্র কারণ নেই। বিভিন্ন ব্যক্তির ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিষয় কাজ করতে পারে। যেমন—
- যৌনমিলন নিয়ে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা বা পারফরম্যান্সের চাপ।
- মানসিক চাপ, উদ্বেগ কিংবা সম্পর্কের টানাপোড়েন।
- নতুন যৌন সম্পর্ক বা যৌন অভিজ্ঞতার অভাব।
- আগে স্বাভাবিক থাকার পর হঠাৎ বীর্যপাতের সময় কমে যাওয়া।
- কিছু ক্ষেত্রে উত্থানজনিত সমস্যা, থাইরয়েডের সমস্যা বা মূত্র-প্রজননতন্ত্রের অন্য কোনো অসুস্থতা।
তাই সমস্যাটি কেন হচ্ছে, তা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আগে সমস্যা না থাকলেও হঠাৎ শুরু হলে শুধু ব্যায়াম করে যাওয়ার পরিবর্তে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ওষুধ ছাড়া আরও যেসব অভ্যাস সহায়ক হতে পারে
মানসিক চাপ কমানো: যৌনমিলনকে কোনো প্রতিযোগিতা বা নির্দিষ্ট সময়ের পরীক্ষা হিসেবে না দেখে স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা হিসেবে গ্রহণ করার চেষ্টা করুন।
সঙ্গীর সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা: নিজের অস্বস্তি ও প্রত্যাশা নিয়ে কথা বললে চাপ কমতে পারে এবং দুজনের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়তে পারে।
পর্যাপ্ত ঘুম ও নিয়মিত শরীরচর্চা: সামগ্রিক শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে এগুলো গুরুত্বপূর্ণ। তবে এগুলো একাই দ্রুত বীর্যপাতের নির্দিষ্ট চিকিৎসা নয়।
অবাস্তব প্রত্যাশা এড়িয়ে চলা: যৌনমিলনের জন্য সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। কতক্ষণ স্থায়ী হওয়া উচিত—এমন ধারণার চেয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণ, স্বাচ্ছন্দ্য ও সঙ্গীর সঙ্গে পারস্পরিক সন্তুষ্টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদি প্রায় প্রতিবারই প্রত্যাশার আগেই বীর্যপাত হয়, বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করতে অসুবিধা হয় এবং এর কারণে মানসিক কষ্ট বা সম্পর্কের সমস্যা তৈরি হয়, তাহলে ইউরোলজিস্ট বা যৌনস্বাস্থ্য বিষয়ে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সমস্যার কারণ অনুযায়ী চিকিৎসক আচরণগত অনুশীলন, কাউন্সেলিং কিংবা প্রয়োজনে ওষুধের পরামর্শ দিতে পারেন। নিজে থেকে যৌনশক্তিবর্ধক ওষুধ, অনিয়ন্ত্রিত হারবাল পণ্য বা অনলাইনে প্রচারিত তথাকথিত গোপন চিকিৎসা ব্যবহার করা ঠিক নয়।
শেষ কথা
দ্রুত বীর্যপাত একটি পরিচিত সমস্যা এবং এর জন্য লজ্জা পাওয়ার প্রয়োজন নেই। স্টপ-স্টার্ট পদ্ধতি ও পেলভিক ফ্লোরের ব্যায়াম কিছু মানুষের উপকারে আসতে পারে, তবে ফল পেতে অনুশীলন, ধৈর্য এবং প্রয়োজনে সঠিক চিকিৎসা গুরুত্বপূর্ণ।
মনে রাখবেন, ওষুধ ছাড়া উপায় চেষ্টা করা সম্ভব হলেও দ্রুত বীর্যপাতের শতভাগ নিশ্চিত বা সবার জন্য কার্যকর কোনো ঘরোয়া সমাধান নেই। নিজের সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা নতুন উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।
স্বাস্থ্যতথ্য: এই প্রতিবেদনটি সাধারণ সচেতনতামূলক তথ্যের জন্য; এটি ব্যক্তিগত চিকিৎসার বিকল্প নয়।

Comments
Post a Comment